আযহারীর ভক্তকুলের প্রতি কিছু কথা

0
682

আব্দুল্লাহ সালমানঃ আজকের দেশবানী।

সাম্প্রতিক সিলেটে আযহারীর মাহফিল বন্ধ হওয়াতে কিছু ভাই বেজায় ক্ষেপেছেন। কেউ স্বার্থের খাতিরে আর কেউবা আহাম্মক নাম্বার ছয়ের মত।
সিলেটের জনসাধারণ এখন তিনভাগ; আযহারী ভক্ত, হক্কানি আলেম ওলামা পন্থি, নীরব ভূমিকায় মানে দেখি কি হয় গ্রুপ। আযহারী ভক্তকুল আবার দুই ধরনের; কানা ভক্ত, অন্ধ ভক্ত।

কানা ভক্ত: এরা মূলত সুযোগ সন্ধানী। যারা মূল উদ্দেশ্যের খাতিরে সমর্থন না করে সুযোগ কাজে লাগিয়ে অন্য কোন ফায়দা অর্জন করতে চায়। যেভাবে কানা মানুষ দেখেও না দেখার ভান ধরে, সে যে দেখতে পায় তা লোকচক্ষু থেকে আড়াল করে। আর যদি কোন বাধা তাদের টার্গেটের সামনে এসে দাঁড়ায় তাহলে তারা নিজের বাপকেও ছাড়ে না।

অন্ধ ভক্ত: অন্ধকে যদি বলেন সোজা হেটে যান রাস্তা আছে তাহলে সোজা খালবিল হলেও সে হাটতে থাকবে। ঠিক একইভাবে সুযোগ সন্ধানী কানা ভক্তকুল এ দলকে যা বলে তাই তারা বিশ্বাস করে এবং সত্যমিথ্যে যাচাই না করেই মিথ্যার পেছনে ঘুরে সত্যকে তিরস্কার করে।

হক্কানি আলেম ওলামা পন্থি ও দুইভাগ; এক- প্রতিবাদী অর্থাৎ হকের পক্ষে আলেমদের রণাঙ্গনের সাথী। দুই- প্রতিবাদী না হলেও সার্বক্ষণিক ওলামা সমর্থনকারী।

নীরব টাইপ: এরা দুই নৌকার আরোহী। যেদিকে রায় হবে সেদিকেই আমরা আছি।

আমার কথাগুলো প্রথম ও তৃতীয় গ্রুপের উদ্দেশ্যে।
ডাক্তার বলে টয়লেট করার পর ও খাওয়ার আগে ভাল করে হাত ধুয়ে নিতে, নাহয় হাতে জীবাণু থেকে যেতে পারে। আর এই জীবাণু থেকে মারাত্মক রুগ জন্ম নিতে পারে।
এই উপদেশ আমরা সবাই মানি। কারণ ডাক্তার জানে কি থেকে কি হতে পারে, তাই সে আগে থেকেই পরামর্শ দিয়ে রেখেছে যাতে মানুষ এসবের দ্বারা আক্রান্ত না হয়। আমরাও রুগমুক্ত থাকতে ডাক্তারের কথাকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করার চেষ্টা করি।
এখন দেখা গেল কিছু লোক ডাক্তারের সাথে ব্যক্তিগত শত্রুতার বশে এ পরামর্শকে মানছে না। এবং মানুষকেও না মানার ক্ষেত্রে অনেক কারণ দেখাচ্ছে। না মানার আসল কারণ শুধু তাদেরই জানা আছে। অথচ সাবানের অপচয়ের বুলি আওড়াচ্ছে তাদের অনুসারীদের মাঝে।
এদের দু’ গ্রুপই ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।
কেউ উপদেশের মূল উদ্দেশ্যের দিকে না তাকিয়ে নিজেদের স্বার্থের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত আর কেউবা তাদের ফাঁদে পা’ দিয়ে ক্ষতি সাধন করছে।
আর যারা ডাক্তারের পক্ষে থাকবে, চাই সে ডাক্তারের সাথে মাঠে থাকুক বা ঘরে বসেই উপদেশ পালন করুক তারাই সফল হবে এবং রুগমুক্ত থাকতে সক্ষম হবে।
যারা নীরব থেকে চিন্তা করবে যে, যদি বেশি লোক ডাক্তারের পক্ষে থাকে তাহলে আমরাও আছি আর বিপক্ষে থাকলে আমরাও নেই। তাহলে এই গ্রুপের লাভ ক্ষতি দু’টারই সম্ভাবনা রয়েছে।

এবার আসি মূল কথায়; হক্কানি ওলামায়ে কেরাম হচ্ছেন অন্তরের ডাক্তার, দ্বীনের ডাক্তার। তাঁরা যে উপদেশ আর পরামর্শ দেবেন তা যদি কেউ মানে তাহলে সে সফল, চাই সে আলেমদের সাথে ময়দানে থাকুক আর ঘরে বসে উপদেশ পালন করুক। বর্তমানে যারা আলেম ওলামা পন্থি তারাই হচ্ছেন এ গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত।
আর যারা তাদের বিরুদ্ধাচরণ করবে তারাই হবে ক্ষতির সম্মুখীন। বর্তমানে যারা আযহারী ভক্ত, নিজের স্বার্থে অথবা ভুল বুঝানোর ফলে আলেমদের বিরুদ্ধে কথা বলছে তারাই এ গ্রুপের অধীনে।
আর যারা হাল বুঝে পাল টাঙ্গানোর অপেক্ষায় আছে তারা সময় নষ্ট করছে। সম্ভাবনা আছে ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার। বর্তমানে যারা উভয় পক্ষের সাথে সামঞ্জস্যতা বজায় রেখে চলছে তারাই হচ্ছে এ দলের।

ইসলাম বুঝানোর জন্যে সিলেটের মাটিতে আল-আযহারের প্রোডাক্ট আমদানি করতে হবে এ পরিস্থিতি এখনও সিলেটে তৈরি হয়নি। এ পুণ্যভূমি ওলী আউলিয়ার ঘাটি, এখনও দেশ বিখ্যাত বুজুর্গ এ মাটিতে অবস্থান করছেন। যারাই বিদেশী পণ্যের দরদী হয়ে নিজেদের মাথার তাজ উলামায়ে কেরামের বিরোধিতা করছেন, মনে রাখবেন! আপনার জানাযার খাট উনারা বহন করবে না। শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হওয়ার পর আপনার আমদানীকৃত প্রোডাক্ট এসে হাত তোলে প্রভুর কাছে আপনার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করবে না।
মরতে একদিন সবাইকে হবে। কানার বেশে যারা বুঝেও না বুঝার বাহানা করছেন আর যারা অন্ধের মত ভুলের খাঁচায় বন্দি, এখনও সময় আছে তাওবা করুন, সঠিক পথে আসুন।
আল্লাহ! আমাদের সবাইকে সঠিক পথে জীবন পরিচালনা করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

Print Friendly, PDF & Email