“অবহেলিত ডাকবাক্সের ক্লান্ত ডাকপিয়ন”

0
348

“অবহেলিত ডাকবাক্সের ক্লান্ত ডাকপিয়ন”

ইসরাত জাহান পান্না

 

কখনো ভেবেছেন,
ডাকবাক্সে মরিচা ধরেছে কেন?

কেন এতো কালের অক্লান্ত ডাকপিয়ন আজ ক্লান্ত?
ভাঙ্গা মেঠো পথ পেঁকে যাওয়ার শত বছর পরেও কেন সাইকেলের বেল আর বাঁজেনা!
ভেবেছেন কখনো?

নিশ্চিত মাথায় আসেনি!
না আসার- ই কথা।
“মুখবইয়ের যুগ”এই-ই উত্তর হবে।তাইতে?
ঠিক টা নয়।

এর পেছনে বড়সড় একটি কারণ রয়েছে।
জানতে চান কি?
আমি বলছি ,শুনুন:

ছলনাময় প্রেমিকের বেড়াজালে আবদ্ধ হয়ে পৃথিবীর বর্তমান সকল প্রেমিকা যখন একঘরা হয়ে আছে।

এমনি এক ছলনাময় অপ্রেমিকের প্রেমে জড়োসড়ো হয়ে আমি রোজ লিখে যাচ্ছি অজস্র কবিতা,
লক্ষ কোটি উপন্যাসে লাইন,
আর একটি করে চিঠি!

ডাকবাক্সে রোজ একটি চিঠি বহন হতো।
ছুঁটে চলতো ডাকপিয়ন।
ফিরে আসতো বড়া হাতে সেই চিঠিটি নিয়ে,
ঠিকানা ঠিকই আছে।
কপাল গুনে আমার ঠিকানা ছিলো আপনার অচেনা!

কেবল একটি মাত্র চিঠিতে ডাকযোগ তার ব্যবসা ধরে রাখতে অনিচ্ছুক।
আর চিঠি জমা হবে না!
ডাকপিয়ন উঁচু গলায় বললো,
তার আত্মসম্মান আছে।

সেকাল থেকে মরীচিকায় ডুবে আছে ডাকবাক্স।
ক্লান্ত শরীর বহে ডাকপিয়ন।

আপনি এসব তেমন খেয়াল করেননি।
অথচ ,
মনে করছেন আমি মরেছি, না হয় ভুলেছি!
আজও চিঠি হয়;

লেখা হয় বড় বড় অক্ষরে, ভুল বানানে।আজও ছলনাময় অপ্রেমিকের অপ্রত্যাশিত পথে চেয়ে থাকে কিছু সহ্যশীলিনি।
আজও বাস্তব সব অকল্পিত নয়!

আমি চিঠি পড়তে বলিনি;
উত্তরও চাইনি।
একটিবার ছুঁয়ে দূরে ছুঁড়ে ফেললেও হতো।
ছোঁয়া তো পেতো!
ফিরিয়ে দিলেন কেন?

নচেৎ অলসতায় বৃদ্ধ হতো না ডাকপিয়ন! আর অবহেলায় পড়ে থাকতো না ডাকবাক্স!!
অপরাধটা কার ছিলো?

Print Friendly, PDF & Email