এক বছর আগে ধর্ষিতা শিশুর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু।

0
352

এক বছর আগে ধর্ষিতা শিশুর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
১৪:৩৭, ১৮ জুন, ২০১৯

প্রতীকী ছবি

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে একবছর আগে ধর্ষিত হয়ে গুরুতর আহত এক শিশু চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে। সোমবার ঢাকায় এক আত্মীয়ের বাসায় ধর্ষিতা আছিয়া আক্তার (৮) মারা যায় বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত বছর ৯ জুন নিজ বাড়িতে ডেকে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে একই গ্রামের তায়েজ উদ্দিনের ছেলে মো. মাহবুব রহমান (১৫)। এতে আছিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে এলেঙ্গার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে এবং পরে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে শিশুটিকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রেফার্ড ও ভর্তি করা হয়।

সোমবার আছিয়ার মৃতদেহ ঢাকা থেকে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হলে শত শত মানুষ তার বাড়িতে ভিড় জমায়। চারদিকে চলে শোকের মাতম। আসামির উপযুক্ত শাস্তির দাবিতে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এলাকারবাসীরা।পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শুকুর মাহমুদ বিচারের আশ্বাস দিয়ে লাশটি দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত শিশু ও মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ওয়ানস্টোপ ক্রাইসিস সেলের অফিসার মো. বায়জিদ বলেন, ধর্ষণের ফলে শিশুটির ব্যাপক রক্তক্ষরণ হয়েছিল। শিশুটির যৌনাঙ্গ ছিঁড়ে মলদ্বারের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল। এতে ৮টি সেলাই করার পর অবস্থার অবনতি হলে টাঙ্গাইলের তৎকালীন এডিসি (জেনারেল) নেছার উদ্দিন জুয়েলের সহায়তায় তাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।

আছিয়ার বাবা আশরাফ আলী বলেন, বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে ডেকে নিয়ে মেয়েকে ধর্ষণ করে। এতে রক্তক্ষরণ হলে তাকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে মেয়ে সেখানেই চিকিৎসাধীন ছিল। মাঝে মধ্য শারীরিক অবস্থা কিছুটা ভালো হলে তাকে বাড়ি ও ঢাকায় এক আত্মীয়র বাসায় রাখা হতো। অবস্থার অবনতি হলে আবার হাসপাতালে ভর্তি করা হতো । এভাবেই মেয়ের চিকিৎসা চলছিল।

তিনি আরও বলেন, ধর্ষণের ঘটনার পর আমি থানাটি মামলা করেছিলাম। আসামি গ্রেফতারও হয়েছিল। কিন্তু আসামি এখন জামিনে মুক্ত। তারা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নিয়মিত চাপ দিয়ে যাচ্ছে। আমি আমার শিশুকন্যা হত্যার উপযুক্ত বিচার চাই।

কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মোশারফ হোসেন বলেন, মামলা দায়ের করার পর আসামি মাহবুবকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। পুলিশের পক্ষ থেকে চার্জশিটও দেওয়া হয়েছে। আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তবে বতর্মানে সে জামিনে মুক্ত। মামলাটি বিচারাধীন রয়েছে

Print Friendly, PDF & Email