ভোলা চরফ্যাশনে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা কাশেমের বিরুদ্ধে ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ

0
189

চরফ্যাশন প্রতিনিধিঃ আজকের দেশবানী।

চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষন থানাধীন হাজারীগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ আবুল কাশেম কে এম,পি ২৩৯/২০ নং মোকদ্দমা সরজমিনে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিলে তদন্ত কর্মকর্তা বিবাদীদের নোটিশ জারি করে তদন্তের বিষয়ে অবগত করেন। তারই ধারাবাহিকতায় বিবাদী পক্ষ উপস্থিত হলে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বিবাদীদের নিকট পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করেন।
বিবাদীরা পঞ্চাশ হাজার টাকার অনুকূলে পাঁচ হাজার টাকা দিলে তদন্ত কর্মকর্তা বিবাদীদের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
অভিযোগ সুত্রে জানাজায় স্থানীয় চর ফকিরা মৌজার সি,এস দাগ নং ৫৫৭/১, ৫৫৯/১. খতিয়ান ১৮৪ নং এবং ৫২৪/১,৫২৫/১, ১৮৫ নং খতিয়ান ভূক্ত ১০ একর জমির বন্দোবস্ত সূত্রে মালিক জনৈক আঃ কাদেরে ও আঃ মতলেব ভূঁইয়াদ্বয়। তাদের নিকট হতে গত ১১/৭/১৯৬৬ ইং তারিখে ৩৮৪৯,৩৮৫০ নং দলিল মূলে আলমগীর ও রুহুল আমিনরা ৭.৫০ একর জমির খরিদ সুত্রে মালিক হয়।
উক্ত জমির অদ্য পর্যন্ত ভোগ দখল করে আসছেন কিন্তু এর মধ্যে গত ৮/১২/২০ ইং তারিখে মৃত রত্তন ভূঁইয়ার পুত্র জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া বাদী হয়ে মোকাম চরফ্যাশন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন উক্ত মামলার তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য হাজারীগঞ্জ ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ আবুল কাশেম কে দায়িত্ব প্রদান করেন।
উক্ত তদন্ত কর্মকর্তা বিবাদীদের নিকট পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করলে বিবাদী পক্ষ নিরুপায় হয়ে পাঁচ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হয়। তার পর ও তদন্ত কর্মকর্তা বাদী পক্ষের সঙ্গে মোটা অংকের ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে বিবাদীদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।
পক্ষান্তরে দেখা যায় ঐ দাগের ঐ খতিয়ান ভূক্ত বিরোধীয় জমির বিষয়ে চরফ্যাশন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৪১০/২০(শশী) মামলা দাখিল করেন।
উক্ত মামলার তদন্ত ভার ওসি শশীভূষন থানাকে দায়িত্ব দিলে উহার সরেজমিনে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
ঐ তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ওসি সাহেব প্রকাশ্যে ও গোপনে এবং স্থানীয় লোকজনের ১৬১ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করেন। তাতে প্রতিয়মান হয় যে বিবাদীদের বাল্য কালে পিতা, পুত্রদ্বয়ের নামে জমি খরিদ করেন একই দিনে দুইটি দলিলে একই তারিখে ১১/০৭/১৯৬৬ সনে ৩৮৪৯/৩৮৫০ নং দলিল মূলে। দুইজন দাতা দুই দলিলের সাথে (সাক্ষী) পরিচিতি দিয়েছেন দাতাদ্বয় এমনি প্রমান দেখা যায় দলিল দুটিতে।
সে থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিবাদীরা জমি ভোগদখলে বিদ্যমান রয়েছে। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র যখন করা হয়েছে তখন তথ্য সংগ্রহ কারীরা সঠিক তথ্য সংগ্রহ না করার কারণে দলিলের সাথে জাতীয় পরিচয়পত্র উল্লেখিত জন্ম তারিখের গরমিল রয়েছে বিবাদীদের। যেহেতু বিবাদীদের কেউ কোন চাকরি করেন না তাই তারা জন্ম তারিখ সংশোধন করেনী কারন জন্ম তারিখ সংশোধন করতে গুনতে হয় মোটা অংকের অর্থ এবং শিকার হতে হয় ভোগান্তির শিকারও।
তবে বিবাদীদের নামে আর এস,সি এস, পি এস,এস এ,ডিয়ারা ও বি এফ খতিয়ান ভূক্ত আছে।
সেই সাথে বিবাদীরা গত ১১/৭/১৯৬৬ সন থেকে অদ্য চলতি সন পর্যন্ত সরকার কে ভূমি কর পরিশোধ করে আসছেন বলে জানান আলমগীর গংরা।
এবিষয়ে অভিযুক্ত ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ আবুল কাশেম (তসিলদারের) সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন আমি এখন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি।
আমার পক্ষে আর সম্ভব না তাদের পক্ষে রিপোর্ট করা।
৫০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমার মনে পরে না যে আমি তাদের কাছ থেকে টাকা দাবি করেছি।
আপনাকে তো বিবাদীরা পাঁচ হাজার টাকা দিয়াছে? জবাবে তিনি বলেন যদি তাদের কাছ থেকে পাচঁ হাজার টাকা নিয়ে থাকি আমি তাদেরকে টাকা ফেরৎ দিতে বাধ্য।

Print Friendly, PDF & Email