লেবাননের বর্তমান অবস্থায় বেশী ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীরা

0
94

 

হেলাল আহমদ, লেবানন প্রতিনিধিঃ

উত্তর সুইজারল্যান্ড খ্যাতি পাওয়া দেশ লেবানন। লেবানন ১০ হাজার ৪৫২ বর্গকিলোমিটার আয়তনের একটি দেশ।
মাত্র ৬১ লাখ জনসংখ্যা যে দেশে, সে দেশে ১৫ লাখ সিরীয় ও ফিলিস্তিনি শরণার্থীর এখানে বসবাস। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের তুলনায় আয়তনের দিক দিয়ে ক্ষুদ্র এই দেশটি।লেবানন এমন একটি দেশ, যেখানে ৫৪ শতাংশ জনসাধারণ মুসলিম, ৪১ শতাংশ খ্রিষ্টান এবং ৫ শতাংশ দ্রুজ জাতিগোষ্ঠীর মানুষ। রাষ্ট্রব্যবস্থায় ক্ষমতা বণ্টনে রাষ্ট্রপতি খ্রিষ্টান, প্রধানমন্ত্রী সুন্নি মুসলিম এবং স্পিকার শিয়া মুসলিম।দেশটির পর্যটনই হচ্ছে অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি।
নব্বই দশক থেকে শুরু হয়ে শহীদ রফিক হারিরির মৃত্যুর আগ মূহুর্ত পর্যন্ত বিভিন্ন দেশের জনগণ পর্যটক হিসাবে প্রতি বছর হাজার হাজার আগমন থাকলেও পরবর্তীতে সেই সংখ্যা নগন্য হয়ে দাঁড়ায়।উপাদানে চেয়ে ৯০% আমাদানির উপর নির্ভরশীল এই লেবানন দেশটি।

পশ্চিম এশিয়ার এ দেশ (লেবানন) দীর্ঘদিন বিদেশি আগ্রাসন আর গৃহযুদ্ধে ক্ষতবিক্ষত। দেড় দশক ধরে অভ্যন্তরীণ সামাজিক ও রাজনৈতিক চুক্তির আওতায় গণতন্ত্রের মোড়কে গঠিত রাষ্ট্রব্যবস্থা কিছুটা স্থিতিশীলতা পেলেও দেশটির অর্থনীতি ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক অব্যবস্থা, দুর্নীতি ও দুঃশাসনে বর্তমানে এখানকার জনগণের নাজুক অবস্থার মধ্যে যাচ্ছে। জনগণ এর প্রতিকার করতে গিয়ে বিক্ষোভ আন্দোলনে সরকার পরিবর্তন, নতুন সরকার গঠন আবার পদত্যাগ এভাবে চলছে দেশটি।
গত ৪ আগস্ট বৈরুত বন্দরে থাকা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বিস্ফোরণে বন্দরটি একেবারেই ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিস্ফোরণে প্রায় দুইশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে।এছাড়াও প্রায় তিন লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।অফিস আদালত বন্ধের কারণে চাকুরী হারিয়েছে অসংখ্য মানুষ।

বিশ্ব মহামারী করোনা ভাইরাস দেশটিতে প্রথম সনাক্ত হয় গত ফেব্রুয়ারিতে। ইরান থেকে আগত এক নারীর সনাক্তে পর বিশ্বের অন্যান্য দেশে বসবাসকারী আগত হতে সংক্রমণ সংখ্যা বাড়তে থাকে। করোনার ফলে লেবাননের জনগণের ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ অবস্থা হয়।
আর করোনা নিয়ন্ত্রণে এদেশের সরকার এর পক্ষ থেকে লকডাউন, কারফিউ সহ বিমানবন্দর বন্ধের ফলে কর্মহারা হয়ে পড়ে হাজার হাজার লেবানিজ নাগরিক সহ প্রবাসীরা। মানুষের কর্মহীন হয়ে পড়া, বেতন হ্রাস পাওয়া, মুদ্রার মান পড়ে যাওয়ায় অর্ধেক বেতন হয়ে যাওয়া ইত্যাদি ঘটনা দেশটির অর্থনীতিকে তলানিতে পৌঁছে দেয়।লেবানিজ মুদ্রার মান যেখানে দেড় হাজার লিরায় আমেরিকান এক ডলার পাওয়া যেত বর্তমানে এক ডলার করতে লাগছে বিশ হাজার লিরা।
সব মিলে এতে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রত্যেক দেশের প্রবাসীরা। প্রায় প্রবাসী নিজ দেশ থেকে টাকা এনে নিজেদের বাসাভাড়া, খাওয়া ধাওয়া সহ জীবন যাপন করতে হচ্ছে। জীবন রক্ষার্থে অসংখ্য প্রবাসী এদেশ ত্যাগ করছে। অনেকে নিজেদের জীবন ঝুঁকি নিয়ে অন্যদেশে পাড়ি দিচ্ছে আবার অনেকে নিজ দেশ থেকে টাকা এনে দেশে ফেরত যাচ্ছেন। জরিমানা ছাড়া শুধুমাত্র টিকেটের টাকা জমা দিয়ে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে নাম নিবন্ধনের সুযোগ ঘোষণা করে বৈরুত বাংলাদেশ দূতাবাস। দফায় দফায় প্রায় দশ থেকে বার হাজার প্রবাসী দেশে ফিরতে পারলেও টিকেটের টাকা জমা দিতে না পারা অসংখ্য প্রবাসী এখনো অবস্থান করছে।বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ ও সরকারের নির্ধারীত টিকেট মূল্য চারশো আমেরিকান ডলার করা হয়েছে। আর ডলার যেন সোনার হরিণ হয়ে গেল। লেবাননের বর্তমান যেই অবস্থা এই সময়ে জাতিসংঘের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। নাহয় আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে এ দেশটা।

Print Friendly, PDF & Email