সরকারী রাজস্ব খাত থেকে বেতন ভাতার দাবী বে-সরকারি শিক্ষকদের

0
639

বিশেষ প্রতিনিধিঃ-

২০০৬ সালে অর্থমন্ত্রণালয় বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতার ১০০ ভাগ রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার। যার পত্রের স্মারক নং অম/অবি বাশা-২/৩-২৫৪০ (বেঃসঃশিঃপ্র)/২০০৬। উল্লেখিত সিদ্ধান্তের আলোকে এই প্রজ্ঞাপনটি জারি করে শিক্ষা মন্ত্রনালয় যার স্মারক নং- শিমশাঃ ৩/১জি- ৫/২০০৩/৯৭৭ তারিখ ৩১/১০/২০০৬ খ্রিঃ।

উক্ত স্মারক পত্রের আলোকে বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরারমের সভাপতি মোঃ সাইদুল হাসান সেলিম দাবি করেন “অর্থমন্ত্রণালয় বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের অনুদান সহায়তার পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকেই শতভাগ বেতন-ভাতা প্রদান করা হবে। শর্ত থাকে যে, এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় আয় রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে হবে। দেশের বিপর্যস্ত শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে সরকারের এমনি একটি মহৎ উদ্যোগ বিনষ্ট করে একশ্রেণীর স্বার্থান্বেষী মহল। যার ফলশ্রুতিতে দীর্ঘ ১৩ বছরেও জারিকৃত প্রজ্ঞাপনটি বাস্তবায়নে কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বরং বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের।

অথচ উল্লেখিত স্মারক পত্রে স্পষ্টতই এমপিওভূক্ত বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে প্রদানের আদেশে উল্লেখ রয়েছে। আজকে দেশের শিক্ষার গুণগত মানের অবনতির মূলে রয়েছে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের, শিক্ষকদের প্রতি চরম অবহেলা ও বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা বঞ্চিত করার হীন মানসিকতা। বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের দুই বছরের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি, বৈশাখী ভাতা, টাইম স্কেল, উচ্চতর স্কেল এবং অবসর কল্যাণ ট্রাস্টে বাড়তি সুবিধা না দিয়ে অতিরিক্ত বেতন কর্তন তারই জলন্ত উদাহরণ।

বলার অপেক্ষা রাখে না, শিক্ষায় শিক্ষকের ভূমিকাই প্রধান। দেশের বিপর্যস্ত শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা দিতে হবে। কতিপয় চক্রান্তকারীদের কারণে শিক্ষারা আজকে শ্রেনী কক্ষের বাইরে এসে নিজের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন সংগ্রাম করতে বাধ্য হচ্ছে।

বাংলাদেশ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী ফোরাম বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের পেশাগত অধিকার রক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

*** অবিলম্বে জারিকৃত প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়ন করে রাজস্ব খাত থেকে এমপিওভূক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দিতে হবে।
*** সকল স্তরের এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের ঘোষণা দিতে হবে।
*** শিক্ষকদের সামাজিক বাস্তবতায় সতন্ত্র এবং আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা প্রদান করতে হবে।
*** সরকারি বেসরকারি শিক্ষকদের মধ্যে বিদ্যমান সকল বৈষম্য দূর করতে হবে।
*** আসন্ন বাজেটে শিক্ষা খাতে জিডিপির নূন্যতম ৪% বরাদ্দ দিতে হবে।
অন্যথায় দেশের ৫ লক্ষাধিক শিক্ষক কর্মচারীদের সাথে নিয়ে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

Print Friendly, PDF & Email