সূর্য গ্রহণের সময় রাসূল (সা.) যা করতে বলেছেন

0
375

মিজানুর রহমান, মহেশখালী প্রতিনিধিঃ আজকের দেশবানী।

বৃহস্পতিবার সারাবিশ্ব এমন এক সূর্যগ্রহণ দেখবে যা শেষবার পৃথিবীর মানুষ দেখেছিল ১৭২ বছর আগে। এ সূর্য গ্রহণের সময় সূর্যের চারপাশে থাকবে এক আগুনের বলয়। বিজ্ঞানীরা যাকে বলেন রিং অব ফায়ার।

তাই এ সূর্য গ্রহণ দেখার জন্য অনেক প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেউ কেউ বিশেষ গ্লাস কিনে রাখছে।

অধিকাংশ সময়ই আমাদের দেশের মানুষেরা অত্যন্ত আনন্দ আর কৌতুহল নিয়ে সুর্য গ্রহণ এবং চন্দ্রগ্রহণ প্রত্যক্ষ করে থাকে। অথচ বিষয়টি আনন্দর নয়, ভয় ও ক্ষমাপ্রার্থনার।

সূর্য ও চন্দ্র যখন গ্রহণের সময় হয় তখন আমাদের নবীর ( সা.) চেহারা ভয়ে বিবর্ণ হয়ে যেত। তখন তিনি সাহাবীদের নিয়ে জামাতে নামাজ পড়তেন। কান্নাকাটি করতেন। আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতেন।

আরবীতে সূর্য গ্রহণকে কুসূফ বলা হয়। আর সূর্যগ্রহণের নামাজকে নাজাজে কুসূফ বলা হয়।

দশম হিজরীতে যখন পবিত্র মদিনায় সূর্য গ্রহণ হয়, রাসূল ( সা.) ঘোষণা দিয়ে লোকদেরকে নামাজের জন্য সমবেত করেচিলেন। তারপর সম্ভবত তার জীবনের সর্বাধিক দীর্ঘ নামাজের কিয়াম, রুকু, সিজদাহ, মোটকথা, প্রত্যেকি রুকন সাধারণ অভ্যাসের চেয়ে অনেক দীর্ঘ ছিলো।

অবিশ্বাসী বিজ্ঞানীরা প্রথমে যখন মহানবী ( সা.) এ আমল সম্পর্কে জানতে পারলো, তখন তারা এটা নিয়ে বিদ্রুপ করলো ( নাউজুবিল্লা)। তারা বললো, এ সময় এটা করার কি যৌক্তিকতা আছে?

সূর্য গ্রহণের সময় চন্দ্রটি পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে চলে আসে বলে সূর্যগ্রহণ হয়। ব্যাস এতটুকুই এখানে কান্নাকাটি করার কি আছে? মজার বিষয় হল, বিংশ

সূর্য গ্রহণের সময় চন্দ্রটি পৃথিবী ও সূ্র্যের মাঝখানে চলে আসে বলে সূর্য গ্রহণ হয়। ব্যাস এতটুকুই এখানে কান্নাকাটি করার কি আছে? মজার বিষয় হল বিংশ শতাব্দীর গোড়ায় যখন এ বিষয় নিয়ে গবেষণা শুরু হলো, তখন মহানবীর ( সা.) এই আলমের তাৎপর্য বেরিয়ে আসলো।

আধুনিক সৌর বিজ্ঞানীদের মতে, মঙ্গল ও বৃহস্পতি গ্রহ দুটি কক্ষপথের মধ্যবলয়ে রয়েছে এস্টেরয়ে (Asteroids) মিটিওরিও ( Meteorite) ও ইল্কপিন্ড প্রভৃতি ভাসমান পাথরের এক সুবিশাল বেল্ট, এগুলো এককথায় গ্রহাণুপুঞ্জ বলা হয়।

এই দৃষ্টিকোন থেকে সূর্য বা চন্দ্রগ্রহণের সময় মহানবী (সা.) সেজদারত হওয়া এবং সৃষ্টিকুলের জন্য পানাহ চাওয়ার মধ্যা আমরা একটি নিখুঁত বাস্তবতার সম্পর্ক খুঁজে পাই। মহানবীর ( সা.) এ আমলটি ছিলো যুক্তিসঙ্গত ও একান্ত বিজ্ঞানসম্মত। তাই এটিকে উৎসব না বানিয়ে আল্লাহকে ভয় করুন। সালাত আদায় করুন।

ঢাকায় সূর্য গ্রহণটি বাংলাদেশ সময় ( বিএসটি) সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়ে বেলা ২টা ৫ মিনিট ৩৬ সেকেন্ডে শেষ হবে। সকাল ৯টা ১মিনিট ১৬ সেকেন্ডে। ওই সময়ই সূর্য সবচেয়ে বেশি ঢাকা পড়বে চাঁদের আড়ালে এবং সূর্যকে একটি অগ্নিবলয়ের মতো দেখাবে।

তাই এ সময় সালাতে দাড়িয়ে যান। অন্যদের ও বলুন প্রার্থনায় নিমগ্ন হতে যাতে এর ফলে মানুষের কোন ক্ষতি কোথাও না হয়।

Print Friendly, PDF & Email